শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০১১

অন্যায় বৃষ্টি: আল মাহমুদ

সকালে ঘুম থেকে জেগেই মনে হলো আজকের এই বৃষ্টিটা
তোমার জন্য।
জানালার ওপর এই ঝরঝরানি, বাথরুমের পর্দায় বাতাসের হা-হুতাশ
আকাশে জমে থাকা পানির পর্বত আর মেঘের ভেতর বিদ্যুতের ঝলক।
যেন দ্রুত তোমার মুখ, তোমার বুক, তোমার উরুসন্ধির শুভ্রতা
আর ঘোটকীর লেজের মতো শ্যাম্পুধোয়া পীতাভ কেশরাশি
এখন অফুরন্ত বৃষ্টি।
আর তোমার নাম শ্রাবণ এবং ভাদ্রকে নিংড়ে
আমার ওপর ঝরিয়ে দিলো বাংলাদেশের সহস্রধারা নদী।

আমি এখন কি করি? কেন আমার প্রভাতে পথহারা ইলিশের ঝাঁক
খুবলে খেয়ে ফেলতে থাকে টেবিলের বই? জানালার পর্দা
কামড়ে ধরে পালিয়ে যাচ্ছে শুশুকের দল।
দক্ষিণগামী নৌকাগুলো কেন বিনা নোটিশে ডুবিয়ে দেবে তুমি? কই
আজ তো আবহাওয়ায় কোন পূর্ব সতর্কতার সামান্যতম
সাবধানবাণীও ছিলো না!
তেবে কেন ভাঙা মাস্তুলের গুঁতোয় আমার ফজরের ঘুম ভাঙালে?

এখন আমার মুখের ওপর ছিন্নপালের ভেজা দড়িদড়া
আর আমার বুকের ভেতর নিঃশব্দে নিঃশ্বাস নিচ্ছে
একটা ঘোলাজলের কালো বোয়াল।

আমি কতবার তোমাকে বলেছি দেখো আমি বন্যাকে ডরাই।

এবার বর্ষাঋতুর আগেই তোমার কামিজ মেরামত করা উচিত।
চৈত্রে আমার বারণ না শুনে তুমি বৈশাখে
বুকের সবগুলো বোতাম খুইয়ে এলে।
এখন ভরা ভাদ্রে ভয়াবহ বানের মাশুল আমি কি করে
একা উসুল করি?
এখন আমার সংসারের উপচে-পড়া নদীর ভেতর আমি এক
স্মৃতি তাড়িত মহাশোল।
আমার কানকোর ভেতর
জমা হয়ে আছে তোমার নীল যমুনার সবুজ শ্যাওলা। আর
বাইরে ভাদরের অন্যায় বৃষ্টি।

আমি সাঁতার জানি, এই অপরাধে আমাকে কি অকূলে ভাসালে?
এখন আমি ডাঙা খুঁজে হয়রান।
আমি তৃষ্ণার্ত বলে কি আমার গেলাসে গড়িয়ে দিলে
আস্ত এক মেঘনা নদী?

এখন আমি জানলাম জলই মানুষের জীবন নয়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন